রাস্তায় কখনো ট্রাফিক পুলিশকে এগিয়ে আসতে দেখেছেন সোজা আপনার দিকে? কেমন ফিলিংস হয়েছে? বুক ধড়ফড় করে উঠেছে? মনে হচ্ছে কী না কিসে ফেঁসে যাচ্ছেন? মনে মনে নিশ্চয় এক্সকিউজ সাজাতে শুরু করেছেন কী বলবেন তা নিয়ে। অথচ ট্রাফিক পুলিশ হলো সবচেয়ে দূর্বল ধরণের পুলিশ। পুলিশের বৃহত্তর জগতে তাদের সম্মান অনেক কম।
.
এবার চোখ বন্ধ করে চিন্তা করুন, পুলিশের আপনার এলাকার থানার এসআই আর ওসি আপনাকে সামনাসামনি বসে থ্রেট দিচ্ছে। বলছে আপনি যদি তাদের কথামত কাজ না করেন তাহলে আপনাকে তো নির্যাতন করা হবেই, বরং আপনার সব বন্ধু, সাহায্যকারীকে আপনাকে সাহায্য করার কারণে তাদের জীবনকেও জাহান্নাম করে দেওয়া হবে। বয়স ৩০ হোক বা ৪০, কী অবস্থা হবে আপনার?
.
বেশি ভয়ের?
আচ্ছা আরেকটা সিনারিও দিই।
.
ধরুন, কেউ আপনাকে সব ধরণের নির্যাতন করছে। শুধু তাই না, আপনাকে খুন করবে বলছে দিনরাত। আপনি কোনো মতে পালিয়ে আরেক জায়গায় আশ্রয় নিলেন। ভয়ে মামলা করলেন নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে। কিন্তু পুলিশ আপনার মামলার বিপরীতে যারা আপনাকে আশ্রয় দিলো তাদেরকেই মেরেধরে নির্যাতনকারীদের হাতে আপনাকে তুলে দিলো।
আপনি তার ক্রুর হাসি ছাড়া কিছুই দেখছেন না।
.
কেমন লাগবে আপনার? পুরো দুনিয়া সংকীর্ণ হয়ে গেছে বলে মনে হবে না? মনে হবে না এ দুনিয়াতে আপনার আর কোনো আশা নেই, কোনো সাহস নেই। এ অন্ধকুপ থেকে বের হওয়া সম্ভব না। অনেক দূরে চলে যাওয়া সম্ভব না। মৃত্যুর অপেক্ষা করতে করতে কাটিয়ে দেওয়া কিছুদিন, দুঃখ, ব্যথা ও হতাশার সাথে বেঁচে থাকতে শেখা। আকাশের দিকে তাকিয়ে তাঁর ইশারার আশায় দিন গোণা।
.
বেশি বেশি বলছি, না? অবাস্তব, অসম্ভব ভয় দেখাচ্ছি? আপনি বুড়ো হন বা গুড়ো, দামাল ছেলে বা পেটমোটা পৌঢ়- পারবেন বলে মনে হয় সহ্য করতে? মনে হয় না। কিন্তু ঠিক একই অবস্থা, একদম মাপা মাপা একই জিনিস সহ্য করেছে কোনো পেটা শরীরের পালোয়ান নয়, নয় কোনো ওয়ার হিরো, এমনকি পোড়া দেহের মেদহীন শ্রমিকও নয়, বরং মাত্র ১৯ বছরের একজন তরুণী। বাংলাদেশের এক ছোট্ট এলাকায় অন্য পাঁচ দশজনের মতই ইট পাথরের শহরের বেড়ে ওঠা এক মেয়ে।
.
চেনেন না তাঁকে?
সে তো ফাতিমা, আমাদের বোন।
.
এইতো সেদিন অর্পা থেকে সে ফাতিমা হলো। তারপরেই তাঁর উপর নেমে আসলো রাজ্যের দূঃস্বপ্ন। নির্যাতন, ঘরছাড়া, মামলা, হুমকি- উপরে যা বলেছি তাঁর প্রতিটা কাটায় কাটায় সহ্য করেছে সে। কিন্তু তারপরও তাঁর মনোবল এতটুকু টলাতে পারেনি কোনো জালিম শক্তি। ভেঙে পড়েছে, কেঁদেছে- কিন্তু কোনো কিছুর সামনেই নতি স্বীকার করেনি। ছেড়ে দেয় নি ঈমান, দ্বীন বা আল্লাহর সাথে কোনো চুক্তি।
.
হত্যার হুমকি তো প্রথম থেকেই চলছিলো। তাঁর বান্ধবীরা তাঁর উপর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মামলা করে। তাঁর বাসার মানুষ হুমকি দেয়, “মামলা বাতিল না করলে সবগুলোর জীবন জাহান্নাম করে ছাড়বে”। বান্ধবীদেরকে বাঁচাতে সে বান্ধবীকে মামলা তুলে নিতে অনুরোধ করলেও যখন পুলিশের এসআই এসে তাঁকে হুমকি দিয়ে তাঁর করা জিডি প্রত্যাহার করতে বললো, সে হয়ে গেলো ইস্পাতের মত দৃঢ়।
.
মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়ের কথা। মুসার মুজিজা থেকে মুসার প্রভুর উপরে ঈমান আনলো ফিরআউনের লেলিয়ে দেওয়া সব কটা জাদুকর। সাথে সাথেই তারা প্রস্তুত হয়ে গেলো জীবন দিতে। সেখানেই তাদেরকে শHiদ করে দেওয়া হলো। আমি অবাক হয়ে ভাবতাম, মাত্রই না ঈমান আনলো? কীভাবে সম্ভব এতো দ্রুত এতো বেশি আত্মত্যাগ করা?
.
এখন আমি আর অবাক হই না।
যে আল্লাহকে চিনে যায়, যে জান্নাতের সুঘ্রাণ পেয়ে যায়, দুনিয়াতে তাঁর উপরে কী আসলো তাঁকে সে থোরাই কেয়ার করে। কেননা এ দুনিয়ার মূল্য তাঁর কাছে তো মাছির ডানার মতও না।
.
আল্লাহ আমাদের বোনকে হিদায়াহর উপরে আরো বেশি অটল রাখুন। সুন্দর একটা পরিবার দিন। তাদেরকে নিয়ে একসাথে জান্নাতে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিন। তাঁকে এতো মহান একজন মুমিনা বানিয়ে দিন যেন তাঁর নাম লেখা হয় উম্মাহর মহীয়সী নারীদের সাথে, শ্রেষ্ঠ চার নারীর সাথে যেন তাঁর হাশর হয়। তাঁর গল্প পড়ানো হয় যুগ থেকে যুগে।
লেখকঃ ইরফান সাদিক। [ আল্লাহ তাকে উত্তম বিনিময় দান করেন। ]

0 মন্তব্যসমূহ